Ticker

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

Capital Market - মূলধন বাজার

 

 মূলধন বাজার / পুঁজি বাজার কি II  What is Capital Market ?

 

Capital Market

 

মূলধন বাজার / পুঁজি বাজারঃ Capital Market 

 

মূলধন বাজার আর্থিক বাজারের ওই অংশ যেখানে দীর্ঘমেয়াদের জন্য অর্থ ও আর্থিক লেনদেন হয় । একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থিক বাজারে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয়; যেমন নগদ অর্থ, শেয়ার, ডিবেঞ্চার, স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ ইত্যাদি । এসব আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয় সাধারনত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে । মূলধন বাজার হচ্ছে ওইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় যেখাসে দীর্ঘমেয়াদের ভিত্তিতে আর্থিক সম্পদের লেনদেন হয় । অর্থাৎ “মূলধন বাজার হলো একটি দেশের উদ্বৃত্ত শ্রেণি ও ঘাটতি শ্রেণির একটি সমাবেশ বা যোগযোগ নেটওয়ার্ক যেখানে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেন করে ।” The capital market is the part of the financial market where money and financial transactions are made for the long term. Different types of financial assets are traded in the financial market for the overall economic development of a country; Such as cash, shares, debentures, short-term, medium-term, long-term institutional loans, etc. These financial assets are usually traded between different individuals and organizations. The capital market is a combination of individuals and organizations that transact financial assets on a long-term basis. That is, "the capital market is a gathering or communication network of a country's surplus class and deficit class where various individuals and organizations transact long-term financial assets."


 

মূলধন বাজারের বৈশিষ্ট্যঃ Characteristics of Capital Market

 

১। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিদ্যমানঃ

মূলধন বাজার এমনই একটা ব্যবস্থা, যেখানে সবসময় কিছু ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সমাবেশ এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেন করে । যেমন- বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক, স্টক এক্সচেঞ্জ, বিনিয়োগকারী এরা সবাই বাজারের সদস্য, যারা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেন করে ।

 

২। দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদের লেনদেনঃ মূলধন বাজারে নমাজের উদ্বৃত্ত শ্রেণি ও ঘাটতি শ্রেণির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদ লেনদেন হয় । যেমন- ঋণ, শেয়ার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি ।

 

৩। ঘাটতি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণি বিদ্যমানঃ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে গতিশীল করে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উদ্বৃত্ত শ্রেণির অর্থ ঘাটতি শ্রেণির কাছে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারের জন্য পৌছে দিয়ে তার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করাই মূলধন বাজারের প্রধান কাজ ।

 

৪। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুবিধা সৃষ্টিঃ মূলধন বাজার ঘাটতি শ্রেণি ও উদ্বৃত্ত শ্রেণির জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুবিধা সৃষ্টি করে তাদের পছন্দমতো সুযোগ গ্রহণের নিশ্চয়তা প্রদান করে ।

 

৫। তহবিল প্রবাহের পথ সৃষ্টিঃ মূলধন বাজার মূলত দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সম্পদ প্রবাহের পথ সৃষ্টি করে ।

 

 

মূলধন বাজারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান সমূহঃ

Participant of Capital Market 

 

একটি মূলধন বাজার কে কার্যকরী মূলধন বাজার বলে আখ্যায়িত করা যাবে তখনই, যখন ওই বাজারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতা মূলক ভাবে তাদের কর্যক্রম পরিচালিত করবে । নিম্নের প্রতিষ্ঠান গুলো মূলধন বাজারে অংশগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান ।

 

১। সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠানসমূহ

২। বিনিয়োগ ব্যাংক

৩। বিমা কোম্পানিসমূহ

৪। পেনশন ফান্ড

৫। বিনিয়োগ কোম্পানিসমূহ

৬। স্টক এক্সচেঞ্জ

৭। মূলধন বাজার নিয়ন্ত্রণকারী আইনগত প্রতিষ্ঠান

৮। সিকিউরিটি কোম্পানি

৯। ব্রোকার

১০। ডিলার

 

সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠানসমূহঃ 

 

সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠান সমূহ সাধারণত বিভিন্ন আর্থিক হাতিয়ারের মাধ্যমে সঞ্চয়ীদের নিকট হতে সঞ্চয় সংগ্রহ করে । সংগ্রহকৃত এই অর্থ পরবর্তীকালে তারা বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে সরাসরি বিনিয়োগ করে অথবা আর্থিক হাতিয়ারে বিনিয়োগ করে । সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠানসমূহের আয়ের উৎস সাধারণত বিনিয়োগের সুদ, বিভিন্ন ফিস । সাধাণত সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক, সেভিংস ও ঋণ অ্যাসোসিয়েশন, সঞ্চয়ী ব্যাংক এবং ক্রেডিট ইউনিয়ন সমূহ অন্তর্ভূক্ত ।

 

বিনিয়োগ ব্যাংকঃ

মূলধন বাজারের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিনিয়োগ ব্যাংক । বিনিয়োগ ব্যাংক গুলো সাধারণত বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে আন্ডাররাইটিং বা অবলেখ হিসাবে সহায়তা প্রদান করে এবং সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক হাতিয়ারসমূহের ব্রোকার বা ডিলার হিসেবে কাজ করে । 

 

বিমা কোম্পানি সমূহঃ

বিভিন্ন বিমা কোম্পানি মূলধন বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে । বিমা কোম্পানিগুলো জনগণের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে এবং পরবর্তীকালে দীর্ঘমেয়াদের জন্য ওইসব অর্থ বিনিয়োগ করে । বর্তমানে প্রচলিত বিমা কোম্পানির মধ্যে জীবন বিমা কোম্পানি, সাধারণ বিমা কোম্পানি, সম্পত্তি বিমা কোম্পানি, নৌ-বিমা কোম্পানি, অগ্নি বিমা কোম্পানি ইত্যাদি প্রধান ।

 

পেনশন ফান্ডঃ

বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মচারীদের অবসরকালীন আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করার লক্ষ্যে পেনশন ফান্ড গঠন করা হয়ে থাকে । কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের চাকরিকালীন তাদের বেতনের অংশবিশেষ দিয়ে গঠিত এই ফান্ডের টাকা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে এবং বিনিয়োগকৃত অর্থের লাভ থেকে অবসরকালীন দায় পরিশোধ করা হয় । 

 

বিনিয়োগ কো্ম্পানিঃ 

বিনিয়োগ কোম্পানিসমূহ জনগণের নিকট তাদের শেয়ার বিক্রয় করে এবং শেয়ার বিক্রয়ের ওই অর্থ দ্বারা বিভিন্ন আর্থিক সম্পদের বিনিয়োগ করে । সাধারণত তিন ধরনের বিনিয়োগ কোম্পানি লক্ষ করা যায় । যথা- ওপেন এন্ড ফান্ড, ক্লোজড এন্ড ফান্ড, ইউনিট ট্রাস্ট । ওপেন এন্ড ফান্ড হচ্ছে, এই ফান্ড যত ইচ্ছা শেয়ার বিক্রয় করতে পারবে এবং বিনিয়োগকারীর চাহিদা অনুযায়ী তা আবার তাদের বাজার মূল্যে ফেরত দিবে । ওপেন এন্ড ফান্ড কে আবার মিউচুয়াল ফান্ড বলে । ক্লোজড এন্ড ফান্ড এর ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট পরিমাণ শেয়ার বিক্রয় করতে পারবে । কিন্তু বিনিয়োগকারীর চাহিদা অনুসারে তা আবার তাদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না । ইউনিট ট্রাস্টও সাধারণত ক্লোজড এন্ড ফান্ডের মত নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ার ইস্যু করে, তবে ক্লোজড এন্ড সাথে পার্থক্য হচ্চে ইউনিট ট্রাস্ট সাধারণত ঋণপত্রে বিনিয়োগ করা হয় ।

 

স্টক এক্সচেঞ্জঃ

মূলধন বাজারে অংশগ্রহণকারী আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে স্টক এক্সচেঞ্জ । এটি কোনো বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নয়; তবে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সব ধরণের বিনিয়োগ হয়ে থাকে । বাস্তবিক অর্থে স্টক এক্সচেঞ্জ হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট স্থান যেখানে সব ধরনের আর্থিক সম্পদ ক্রয় বিক্রয় হয়ে থাকে । 

 

সিকিউরিটি কোম্পানিঃ

এসব প্রতিষ্ঠান সাধারণত বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধি হিসেবে শেয়ার ও সিকিউরিটিজ ক্রয় বিক্রয়ে সাহায্য করে বিনিময়ে কমিশন পায় । তা ছাড়া আমাদের দেশে কখনো কখনো এসব কোম্পানি অবলেখক হিসেবে কাজ করে, আবার কখনো পত্রকোষ ব্যবস্থাপক হিসেবেও কাজ করে ।

 

ব্রোকারঃ

ব্রোকার হচ্ছে এক ধরনের মধ্যস্থতাকারী, যারা বিনিয়োগকারীদের পক্ষে ‍উপযুক্ত কমিশনের বিনিময়ে শেয়ার, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি ক্রয় বিক্রয় করে দেয় । সাধারণত যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্রোকার হিসেবে কাজ করে । 

 

ডিলারঃ 

ডিলার হচ্চে এক ধরনের ম্যধস্থতাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, যারা পাইকারিভাবে মূলধন বাজারে আর্থিক হাতিয়ারসমূহ ক্রয় করে নির্দিষ্ট মার্জিনের বিনিময়ে বিনিয়োগকারীদের নিকট বিক্রয় করে । ডিলার রা ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেটেও কাজ করে ।

 

মূলধন বাজার নিয়ন্ত্রণকারী আইনগত প্রতিষ্ঠানঃ

প্রতিটি দেশেই মূলধন বাজার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে একটি আইনগত নিয়ন্ত্রকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে । এই প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন আইন প্রনয়নের মাধ্যমে কার্য পরিচালনা করে । বাংলাদেশে সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এরূপ প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ ।

 

 

Know more about bank cheque 

Post a Comment

0 Comments